Recents in Beach

দাম্পত্য জীবন সুখী এবং টিকিয়ে রাখার টিপস-পর্ব-১ - Islamic Stories

দাম্পত্য জীবন সুখী এবং টিকিয়ে রখার টিপস-পর্ব-১
দাম্পত্য জীবন সুখী এবং টিকিয়ে রাখার টিপস-পর্ব-১ - Islamic Stories
দাম্পত্য-জীবন-সুখী-এবং-টিকিয়ে-রাখার-টিপস-পর্ব-১-Islamic Stories

দাম্পত্য জীবনের সমস্যাগুলো যাকে তাকে বলে বেড়াবেন না
প্রতিটি দম্পতি তাদের বিবাহিত জীবনে  না কখনও নানারকম মাত্রার টানা-পোড়েনের সম্মুখীন হয়। দয়া করে দাম্পত্য জীবনের সমস্যাগুলো যাকে তাকে বলা হয়ে থাকে বেড়াবেন না। এ কাজটা একেবারেই করবেন না, এটা অন্যায়। নিজের প্রতি অন্যায় ও আপনার স্বামী/স্ত্রীর প্রতি অন্যায়। সর্বজ্ঞ আল্লাহ্ আজওয়াজাল স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বর্ণনা করার সময় বলেছেন, "তারা তোমাদের পরিচ্ছদ ও তোমরা তাদের পরিচ্ছদ"। মনে রাখবেন, বস্ত্র আমাদেরকে আরাম, স্বস্তি ও পরিতৃপ্তি দেয়ার একসাথে আমাদের দৈহিক ভ্রান্তি বা দুর্বলতাগুলোকেও ঢেকে রাখে!

হয়ত আপনি আপনার স্বামী/স্ত্রীর উপর যে কোন কারনেই হোক অসন্তুষ্ট বা হতাশ। যদি এরূপ হয় যে দুজন মিলে কোনভাবেই সেই সমস্যার সমাধান করতে পারছেন না। তাহলে বিশ্বাসী, দূরদর্শী ও ঘনিষ্ঠ কাউকে একান্তে, গোপনে আপনার প্রবলেম খুলে বলুন। এবং নিশ্চিত করুন যেন সেই ব্যক্তি এই ঘটনাটি সম্মন্ধে গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য উপযুক্ত হয়।

কোন একটা প্রবলেম হলো, সাথে সাথে স্মার্টফোন দিয়ে ফেইসবুকে একটা স্ট্যাটাস পোস্ট করে বসলেন। এটি কোন 'স্মার্ট কাজ' না বরং 'ডাম্ব কাজ' হলো। এই ধরনের আচরণে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হবেন আপনি নিজে! কারণ, ধীরে সন্তপর্ণে ব্যক্তি আপনার উপর হতে শ্রদ্ধা হারাবে। আপনার এ ধরনের স্ট্যাটাস দেখে লোকে মনে মনে বলবে, "কি ধরনের ছেলে/মেয়ে এটা? নিজের স্ত্রী/স্বামী সম্মন্ধে এইসব লেখে? ছিঃ!" আপনি হয়ত এই ধরনের স্ট্যাটাস পোস্ট করে লোকের সহানুভূতি চাইছেন, তবুও এইসব ক্ষেত্রে সহানুভূতির বদলে আপনি নিজের মর্যাদা হারাবেন। কতিপয় কিছু লোক পাবেন যারা আপনাকে 'আপু'/ 'ভাইয়া' সম্বোধন করে সস্তা কয়েকটি মন্তব্য করবে, তবুও তারা প্রকৃতপক্ষে আপনার ঝামেলার আগুনে ঘি ঢালবে!

আপনার বৈবাহিক জীবনের নিভৃত কথাগুলো যথাসম্ভব নিজেদের ভেতর সীমাবদ্ধ রাখুন। মায়া করে এটাকে পাবলিক স্পেকটাকলে রুপান্তর করে নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারবেন না


জীবন হচ্ছে ত্রুটিপূর্ণ জিনিস এবং ত্রুটিপূর্ণ মানুষের সমষ
"যখন আমি ছোট ছিলাম, আমার মা আমাদের জন্য রান্না করতেন। উনি সারাদিন প্রচুর খাটনি করার পর রাতের আহার সৃষ্টি করতেন। এক রাতে উনি বাবাকে এক প্লেট সবজি আর একেবারে পুড়ে যাওয়া রুটি খেতে দিলেন। আমি অপেক্ষা করছিলাম বাবার প্রতিক্রিয়া কিরকম হয় সেটি দেখার জন্য। অথচ আব্বা চুপচাপ রুটিটা খেয়ে নিলেন ও আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন স্কুলে আমার আজকের দিনটা কিরকম গেছে।

আমার মনে নাই বাবাকে সেদিন আমি কি জবাব দিয়েছিলাম অথচ এটি মনে আছে যে, মাতা জ্বালা পাঁউরুটি খেতে দেয়ার জন্য বাবার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন। এর উত্তরে জনক মা'কে যা বলেছিলেন সেটি আমি কোনদিন ভুলব না। জন্মদাতা বললেন, 'প্রিয়তমা, সৎকার রুটিই আমার পছন্দ'। পরবর্তীতে সেদিন রাতেরবেলা আমি যখন বাবাকে শুভরাত্রি বলা হয়ে থাকে চুমু খেতে গিয়েছিলাম সেই সময় আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম যে উনি কি প্রকৃতপক্ষে পোড়া রুটিটা পছন্দ করেছিলেন কিনা। পিতা আমাকে দুহাতে জড়িয়ে ধরে বললেন, "তোমার গর্ভধারিণী আজ সারাদিন প্রচুর অধ্যবসায় করেছেন এবং উনি প্রচুর ক্লান্ত ছিলেন। তাছাড়া একটা জ্বালা পাঁউরুটি খেয়ে মানুষ যন্ত্রণা পায় না বরং মানুষ কষ্ট পায় কর্কশ ও নির্মম কথায়। জেনে রেখো, জীবন হচ্ছে ত্রুটিপূর্ণ বিষয় এবং ত্রুটিপূর্ণ মানুষের সমষ্টি।"

আমি কোনক্ষেত্রেই সেরা না বরং খুব ছাড় ক্ষেত্রেই ভাল জানানো যায়। এ জীবনে আমি যা শিখেছি সেটা হচ্ছে, আমাদের ইহাকে অপরের ভুলগুলোকে মেনে নিতে হবে এবং সম্পর্কগুলোকে উপভোগ করতে হবে। জীবন খুবই ছোট; ডেইলি নিদ্রা হতে উঠে অনুতপ্ত বোধ করার কোন মানেই হয় না। যে মানুষগুলো তোমাকে নির্ভুল মূল্যায়ন করে তাদের ভালোবাসো আর যারা তোমাকে মূল্যায়ন করে না তাদের প্রতিও সহানুভূতিশীল হও।"


মাঝে মাঝে সম্পর্কটাতে আরেক মাত্রা নিয়ে আসতে হয়
মাঝে মাঝে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কটাতে ভিন্ন মাত্রা নিয়ে আসতে হয়। ছোট ছোট কতিপয় কাজ আপনাদের মাঝে ভালোবাসাকে বাড়িয়ে দিবে, নব আবেগের ঢেউ নিয়ে আসবে। ধরুন আপনার হয়ত অনেকদিন আপনার জীবনসঙ্গীকে চিঠি লেখা হয় না। ছোট্ট কয়েকটি লাইনের একটা চিরকুট লিখে রাখুন --হতে পারে তার প্রতি আপনার আবেগের কথা, অথবা কোন দোষ করে ফেললে সেইটার স্বীকারোক্তি আর ক্ষমাপ্রার্থনার কথা। অনেকসময় এমনিতেই লিখতে পারেন। দু'টি লাইন লিখে রাখুন, এরপর একটু প্ল্যান করে তার হাতে পৌঁছে দিন। এমনভাবে দেবেন, যেন এটি আপনাদের দু'জনের মাঝেই থাকে--আর কেউ দেখতে বা বুঝতে না পারে। চিরকুট লেখার বা দেয়ার মতন উপায় না থাকলে মোবাইলে বার্তা পাঠিয়ে দিন। আপনার নাম্বার থেকে কয়েকটা ওয়ার্ড লিখে পাঠিয়ে দিন, যেই শব্দগুলো হয়ত আপনার আবেগ বয়ে নিয়ে যাবে আপনার প্রিয়জনের কাছে, আপনার জীবনসঙ্গীর কাছে -- যা পড়ে তিনি বুঝবেন আপনি এখনো তার নিকট এরূপ একজন যা তার নিকট অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ। এ ছোট্ট অনুভূতিটা আপনি তাকে দিলে দেখতে পারবেন বিনিময়ে আপনি আরো অধিক ভালোবাসা ফিরে পাবেন। আর হ্যাঁ, আমাদের হৃদয়গুলোতে ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেয়ার মালিক আল্লাহ। তিনি গাফুরুল ওয়াদুদ, প্রেমময় ও ক্ষমাশীল। আল্লাহর নিকট দোয়া করুন উনি যেন আপনাদের মাঝে ভালোবাসা বাড়িয়ে দেন, শয়তানের কুমন্ত্রণা হতে আপনাদের পবিত্র সম্পর্কটিকে রক্ষা করেন।


দু'জনার আবেগের ডিস্টেন্স যখন সমস্যার কারণ
অনেক সংসারের অস্বাস্থ্যকর দাম্পত্য জীবন এবং সেইসূত্রে ভাঙ্গন পর্যন্ত হয় যার সূচনায় থাকে মূলত স্বামী-স্ত্রীর মাঝে আলাপআলোচনা না হওয়া, দু'জনার মাঝে বন্ধুত্ব না থাকা। দু'জন কথাবার্তার তেমন কোন উপলক্ষ খুঁজে পান না অথবা যখন গল্প করে আনন্দ অনুভব করেন না তখনই এইরকম সমস্যার সূত্রপাত হয়। সমস্যাটি একদিনে সৃষ্টি হয় না। অক্লান্ত হতে থেকে জ্যেষ্ঠ আকার স্বীকার করে। এ প্রবলেম নিরসনে আপনার উচিত ডেইলি কিছু কাজ করা। প্রতিদিন একটু একটু করে সঙ্গীকে বিশেষ সময় দেয়া, তার সঙ্গে আবেগ ভাগাভাগি করে নেয়া। একটু ডিস্টেন্স সৃষ্টি হতে দিলে সেটি প্রচুর বড় ডিস্টেন্স প্রস্তুত করে দেয় কিছুকাল পরেই।

দু'জনার সম্পর্কে আপনার প্রতিদিনের কতিপয় 'investment' আপনাকে বৃহৎ 'profit' এনে দিবে। তাই, অন্তত কয়েকটি কাজ করুন যা হবে আপনাদের মাঝে ১টি ফ্রেন্ডশিপ সৃষ্টিকারী, আনন্দময় কথোপকথনের ১টি কারণ। প্রেমময় এবং ক্ষমাশীল স্রষ্টা আমাদের সংসারগুলোতে বারাকাহ দিন, সেগুলোকে শান্তিময়তায় ভরিয়ে দিন...


স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে কষ্ট ও বিরক্তি যখন আসে
বিয়ের পর থেকেই আপনার অস্তিত্বের সাথে আরেকটা ব্যক্তি জুড়ে রয় প্রায় প্রত্যেকটি মূহুর্তেই। উপস্থিতিতেই থাকুন বা অলক্ষ্যেই থাকুন অপরজন আপনার সত্ত্বার সাথে মিশেই থাকেন। স্বামী-স্ত্রী হওয়া এই দু'জন মানব-মানবী পরস্পরের পরিপূরক। একজন মানুষ পার্সোনালি যতই দারুণ হন না কেন, সৃষ্টিগতভাবে তার যেই সীমাবদ্ধতাগুলো, সেগুলোকে ঢেকে রাখেন সেই প্রিয়জনটি, উনি আপনার শারীরিক-মানসিক-আত্মিক অভাবগুলোকে মেটাতে সাহায্যকারী হবার যোগ্যতা রাখেন। কিন্তু তবুও, মাঝে মাঝে সম্পর্কটির প্রচুর কিছুর কথা ভেবেই নিজেকে যেন পর্যাপ্ত ক্লান্ত মনে হয়। মনে হতে পারে-- এত সব কষ্ট, এত আবেগ আর অধ্যবসায় আমার কি বিফলে যাচ্ছে? এইরকম ক্লান্ত-শ্রান্ত হওয়া অনুভূতিগুলোকে ভুল বুঝবেন না, এটি মানবিক। কিন্তু এরকম ক্লান্তির সঙ্গে ভর করে শয়তান কাজ করবে আপনার উপরে। দাম্পত্য জীবনটাকে দক্ষ জীবন ধরে নিবেন না কৃপা করে। এ জীবনটা গড়ে নেয়ার, দু'জনে মিলে গড়ে তোলার।

জীবনসঙ্গীর জন্য আপনি ক্রমাগত পর্যাপ্ত অধ্যবসায় করেন...আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য স্বামী/স্ত্রীর জন্য যে কষ্টটুকু,খরচটুকু আপনি করেন তার অসাধারণ প্রতিদান স্রষ্টা নিশ্চয়ই দিবেন। তবুও তাই বলা হয় মানসিক বা শারীরিক টায়ার্ডনেসের ফলে অপরজনের ঊর্ধ্বে বিরক্তি বা নিজেদের সংসার বা সম্পর্কের ঊর্ধ্বে বিরক্ত যদি হয়ে পড়েন--তাহলে মনে রাখবেন আপনি শয়তানের পল্লব কবলে পা দিয়েছেন। মনে রাখবেন, এই মন এবং দেহের রব যিনি--তার কাছেই শক্তি চাইতে হবে। আপনার স্বামী/স্ত্রীও দুর্বল;তিনিও একজন ভুলত্রুটি মেশানো একজন মানুষ। সম্পর্ককে তাজা রাখতে এজন্য আপনার নিজেরও তাজা থাকা প্রয়োজন। অনেকসময় আপনার নিঃশব্দ আলিঙ্গনটুকু আপনার জীবনসঙ্গী বা জীবনসঙ্গিনীকে অনেকখানি আশ্বস্ত করে, শক্তিশালী করে। সম্ভব হলে এ কাজটুকু কেন করবেন না?

যখন ক্লান্ত লাগবে, আল্লাহর নিকট দোয়া করুন যেন তিনি আপনার অন্তরকে, শরীরকে, মনকে উদ্দীপ্ত করে দেন। দোয়া করুন যেন রব আপনাদের দু'জনকে দু'জনার চক্ষুশীতলকারী মিত্র হিসেবে স্বীকার করেন। শয়তানের কুমন্ত্রণা হতে সাবধান থাকবেন। স্বামী-স্ত্রীর পবিত্র সম্মন্ধে ফাটল ধরিয়ে শয়তান একেকজনকে হতাশ করে দেয়, যা আরো প্রচুর পাপকাজের প্রারম্ভ করে। প্রভু আমাদের পরিবারগুলোতে শান্তির সুবাতাস বইয়ে দিন। খোদা আমাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কগুলোকে শয়তানের কুমন্ত্রণা এবং ভালো না মানুষের হিংসা হতে রক্ষা করুন। রব তো প্রেমময় ও ক্ষমাশীল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ