Recents in Beach

দাম্পত্য জীবন সুখী এবং টিকিয়ে রাখার টিপস-পর্ব-২ - Islamic Stories


দাম্পত্য জীবন সুখী এবং টিকিয়ে রাখার টিপস-পর্ব-২ - Islamic Stories(ইসলামী গল্প)
দাম্পত্য-জীবন-সুখী-এবং-টিকিয়ে-রাখার-টিপস-পর্ব-২-Islamic Stories


একই প্রাণ, সেইম আত্মা কেবলই গল্প-উপন্যাস -মুভির বিষয়
যখন আপনার স্বামী/স্ত্রীর সঙ্গে আপনার মতপার্থক্য হবে, বুঝবেন এটাই স্বাভাবিক। দু'জন মানুষের মাঝে অনেক বেশি মিল থাকা সম্ভব হয় না কখনো। একই প্রাণ, একই আত্মা -- এইসব কেবলই গল্প-উপন্যাস -মুভির বিষয়। বাস্তব জীবনে আপনাদের সেকাল আলাদা, আপনাদের টেনশনের শ্রেণিবিভাগ আলাদা, আপনাদের শৈশব-কৈশোর আলাদা। এ ভিন্নতার পরেও দু'জনে দু'জনার ভীষণ কাছের মানুষ কেননা আপনারা দু'জনে একসাথে হয়েছিলেন দুইজনের সত্ত্বা হারিয়ে এক হয়ে মিশে যেতে নয়, বরং দু'জন একসাথে একটি সমতা লক্ষ্যে  করতে। আর জান্নাতে যাওয়ার সেই প্রচেষ্টা মরণ পর্যন্ত আপনি ছেড়ে দিবেন না নিজের স্বার্থেই, তাইনা? স্বামী-স্ত্রী দু'জনের কতিপয় ভিন্নতা তা সত্ত্বেও প্রত্যেকের জীবনে ভারসাম্য তৈরি করে দেয়। মনোমালিন্য হলে সেই দুরত্বটুকুকে জোড়া লাগাতে প্রচেষ্টা নিয়ে ফেলুন। নিজে থেকে প্রবলেম সমাধান করতে প্রথমে এগিয়ে প্রকৃতপক্ষে যদি তখন মনের মাঝে জেগে জাগা পরাজিত হবার টনটনে অনুভূতি, অহং বা দেমাগকে এ সুন্দরতম সম্পর্কতে হিসেবে নিয়ে আসেন কিন্তু আপনি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এই সম্পর্কটার গোটাটাই আপনার --জীবনসঙ্গীর অনেক ভালো থাকা প্রকৃতপক্ষে আপনারই অনেক ভালো থাকা। এইজন্য দু'জনের ভিন্নতাটুকুকে স্বীকার করে গ্রহন করুন ও অপরজনকে স্বস্তি দিতে একটু যদি স্যাক্রিফাইস করতেই হয়, কিন্তু করে ফেলুন। দেখতে পারবেন এটুকুর কারণে আপনি যেই আনন্দ আর শান্তি উপভোগ করবেন তা আপনার ওটুকু কষ্টকে ভুলিয়ে আপনাকে অলৌকিক বেশ ভালো অনুভূতি দিবে। অনেক ভালো দাম্পত্য জীবনটা রেডিমেড পাওয়া যায় না, তাকে তিলে তিলে গড়ে নিতে হয়। গড়ে জেগে ওঠা সেই শান্তির বাড়ির কারিগর অথচ মূলত আপনিই! জ্বি, আপনি ও আপনারা দু'জন...


রাগারাগি করে আমরা আমাদের ফেমেলির শান্তিকে বিনাশ করি

জীবনসঙ্গী বা জীবনসঙ্গিনীর সঙ্গে রাগারাগি করে আমরা আমাদের শান্তিকে বিনাশ করি। রাগ হলে শয়তান আপনার ঊর্ধ্বে দখল প্রসার করতে আরম্ভ করে। ছোট্ট একটা ঘটনাকে আপনার কাছে প্রচুর বড় মনে হবে,  আপনি এইরকম  কথা বলে বসবেন যা হয়ত ভুল করে ফেলা আপনার জামাই বা স্ত্রীর অন্তরকে এফোঁড়-ওফোঁড় করে দেবে। আপনার রাগের মাথায় বলে ফেলা কথা আপনার মাঝে ডিস্টেন্স সৃষ্টি করে দিবে, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ কমিয়ে দিবে। এইরকম সব স্মৃতির জন্ম দিবে দু'জনের মনের মাঝে যা পরবর্তীতে অন্তরে কাঁটা হয়ে বিঁধবে। একারণে অভিমান করবেন না। প্রবলেম সৃষ্টি হলে আলোচনা করুন।

স্বামী-স্ত্রীর সম্মন্ধে চিড় ধরাতে পারলে শয়তান প্রচন্ড আনন্দিত হয়, সে এরূপ প্রচেষ্টায় লিপ্ত থাকে যেন ছোট্ট ভুলকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রী রাগারাগি করে পারস্পরিক অশান্তি তৈরি করে ও ফলশ্রুতিতে যেন জ্যেষ্ঠ জ্যেষ্ঠ অন্যায় এবং খারাপ কাজের জন্ম হবার সুযোগ সৃষ্টি হয়। আল্লাহর নিকট সবসময় দোয়া করুন যেন সৃষ্টিকর্তা আপনাদের সম্পর্ককে যাবতীয় অকল্যাণের হাত থেকে রক্ষা করেন।  হলে কথা না বলে সংযত হোন। আপনার পছন্দ/অপছন্দ এবং ইগোর চেয়ে আপনাদের সম্পর্কটিকে দাম দিন। চিৎকার করবেন না, কাজে লাগানো যায় না এমন ওয়ার্ড ব্যবহার করবেন না। মনে রাখবেন, ক্রুদ্ধ হয়ে আপনি যা করবেন সবই অকল্যাণকর হবে। আল্লাহ আমাদের রাগ সংযত করার তাওফিক দান করুন। স্রষ্টা আমাদের পরিবারগুলোকে অন্যায় এবং অকল্যাণের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখুন।


একটা সন্তুষ্ট দাম্পত্য জীবন প্রচুর সহজ কাজ নয়
একটা সন্তুষ্ট দাম্পত্য জীবন পাওয়া প্রচণ্ড  কাজ নয়। দু'টি ভিন্ন মানুষ, অন্য প্রাণ, ভিন্ন পরিবার, ভিন্ন মন হলেও কতিপয় একতা নিয়ে সংসার  এগিয়ে চলে। সংসারে দু'জন স্বামী-স্ত্রীর মাঝে তৃতীয়জন হচ্ছে শয়তান যে সবসময় সম্মন্ধে ভাঙ্গন ধরাতে চায়, রাগিয়ে দিতে চায়, বর বা স্ত্রীকে পাপকাজে নিমজ্জিত করে তাদের পবিত্র সম্পর্কে অপবিত্রতা প্রবেশ করাতে চায়। এজন্য প্রভু সুবহানাহু ওয়া তা'আলার কাছে হেল্প প্রার্থনা অত্যন্ত প্রয়োজন। প্রতিদিন অনেকবার করে আল্লাহর নিকট দোয়া করা সন্তুষ্ঠজনক যেন তিনি এইরকম স্বামী/স্ত্রী এবং সন্তান সম্প্রদান করেন যাদের দেখে আপনার হৃদয়  হয়, আঁখি জুড়িয়ে যায়, হৃদয়ে স্বাচ্ছন্দ অনুভব করবেন। আল্লাহর নিকট দোয়া করা উচিত নিজের ঈমানের বৃদ্ধির জন্য, সৎকাজের জন্য, হালাল রিযিকের জন্য। যেকোন কিছুর মাঝে সেরা জিনিসগুলো তো মূল্যবান এবং কষ্টার্জিতই হয়, তাইনা?


সংসার জীবনে ভালোবাসাকে প্রাণবন্ত করে রাখার জন্য হয়
সংসার জীবনে ভালোবাসাকে প্রাণবন্ত করে রাখার জন্য হয়, সঠিক যেমন সুঘ্রাণময় ফুলকে আপনি জল দিয়ে আরো বেশি জীবন্ত করে রাখেন। দু'জন দু'জনকে জেনে-বুঝে তবেই তো সঙ্গী করেছিলেন। সেই লোকটি আপনার জন্য তার সবটুকু নিয়ে সংসার বেঁধেছেন। কক্ষে বাইরে যত রকম অভিজ্ঞতা হোক, হৃদয়ের প্রিয়তম কুঠুরিটা আপনার জন্যই উনি বরাদ্দ রেখেছেন। খটকা আর অভিমানটুকু তুলে রেখে বাসুন না হয় আরেকটু ভালো। আপনার ভালোবাসা আপনাকে ছোট করে দিবে না। আপনার ভালোবাসা তার নিকট আপনার ওজন কমিয়ে দিবে না। ভুলত্রুটিটুকু এড়িয়ে যদি আপনি তাকে আরো ভালোবাসেন, সেটি আপনাকে তার কাছে সম্মানিত এবং আরো প্রিয় করবে। আপনি ভালোবাসা পাওয়ার ১টি পথ প্রস্তুত করতে পারলেন...

কী পাওয়া উচিত ছিলো সেই হিসেবের চেয়ে কী কী দেওয়া উচিত সেই হিসেব করলে সংসার জীবনটা অনেক বেশি মধুর হয়। খোদাকে সন্তুষ্ট করতে দুঃখ করলে তিনিই ইনশা সৃষ্টিকর্তা আপনাকে অসাধারণ প্রতিদান দিবেন। হৃদয়গুলোর মালিক তো কেবলই আল্লাহ, তাইনা?


দাম্পত্য জীবনের খুব বেশ ভালো একটা মূহুর্ত
দাম্পত্য জীবনের অতিশয় ভালো একটা মূহুর্ত হলো, যখন আপনাদের নীরবতাটুকুর মাঝেও আপনার জীবনসঙ্গীর পর্যাপ্ত কথা আপনি বুঝতে পারেন... সুবহানাল্লাহ!

যখন আপনার স্বামী/স্ত্রী কতিপয় মুখ ফুটে বলার পূর্বেই আপনি বুঝে যান কী বলবে সে, সেই মূহুর্তটা প্রচণ্ড অসাধারণ, তাইনা? এইরকম কিছু ভালোবাসা আমরা খুঁজে পাই নিত্যদিনের রকমারি দায়িত্ব আর কাজের মাঝে। সৃষ্টিকর্তা আমাদের সংসারগুলোকে প্রশান্তির ঘর করে দিন।


আপনার জীবনসঙ্গীকে আপনি ভালোবাসেন, এ কথাটা সম্পন্ন কবে বলেছেন?
আপনার জীবনসঙ্গীকে আপনি ভালোবাসেন, এ কথাটা শেষ কবে বলেছেন? ছোট্ট অভিমান, কয়েকটি বিরক্তি পক্ষান্তরে অপূর্ণতাকে পুঁজি করে তাকে আপনার ভালোবাসার কথা জানানো হতে নিজেকে বঞ্চিত করবেন না। কে জানে, এমনো তো হতে পারে হয়ত আপনি তাকে "আমি তোমাকে ভালোবাসি" কথাটা বলার আরেকটা চান্স পেয়ে যাবেন না। ভালোবাসার মানুষটিকে ভালোবাসার কথা বলুন, কেবল তার কাছ থেকে কিছু পেতে চেয়ে নয়, বরং বলুন আপনার নিজের জন্যই। আপনি যখন ভালোবাসবেন, সেই সময় নিজেকে অভিমান, রাগ, ক্ষোভের কারাগার থেকে নিজেকে  দিতে পারবেন। আপনার ভালোবাসার কথা এবং আবেগ আপনার কাছে ভালোবাসা ফিরিয়ে দেবে। আপনার জীবনসঙ্গী/জীবনসঙ্গিনীকে দিনে অন্তত একবার বলুন যে তাকে আপনি ভালোবাসেন। ভালোবাসা ও ভালোবাসার কথা আমাদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলে, প্রিয়জনদের প্রতি ভালোবাসা আমাদেরকে মুক্তির প্রশান্তিময় অনুভূতি দেয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ