উপার্জন কখন হালাল, কখন হারাম
![]() |
| উপার্জন-কখন-হালাল-কখন-হারাম - Islamic Stories |
উপার্জন করা কোনো সময়েই ফরজ হয়ে যায়। তা হলোÑ নিজের জন্য, ফেমেলির জন্য, ঋণ পরিশোধের জন্য এবং যাহার খরচ দেয়া ব্যক্তির ওপর আবশ্যক তার খরচের জন্য প্রচুর পরিমাণ উপার্জন করা। রাসূল যা বলেছেন, ‘ব্যক্তির খারাপ কাজের জন্য এটাই যথেষ্ট, যাদের খোরপোশ প্রদান তার কর্তব্য তাদের খোরপোশ যে অফ রাখবে।’
এ সংখ্যা উপার্জনের পর যদি উপার্জন করা ছেড়ে দেয়, তাহলে তার সেটি করার কর্তৃত্ব আছে। আর যদি নিজের এবং পরিবারের জন্য মজুদ করার মতো কয়েকটি উপার্জন করে তাহলে সেটারও সুযোগ আছে। কখনও উপার্জন করা মুস্তাহাব। তা হচ্ছে ন্যূনতম প্রয়োজনের বেশি উপার্জন করা, যেন তা দ্বারা দরিদ্রকে সহযোগিতা বা নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে রিলেশন রক্ষা করা যায়।
দ্বীন, ইজ্জত, ব্যক্তিত্ব এবং দায়মুক্তিকে নিরাপদ রাখার সাথে ধন এবং সম্মান বাড়ানোর জন্য, সচ্ছলতা অর্জন এবং সমৃদ্ধ জীবনযাপনের জন্য ও পরিবারকে প্রাচুর্যময় রাখার জন্য হালাল উপার্জন বৈধ। কেননা এই শর্তগুলো থাকলে উপার্জনে কোনো লস নেই। গর্ব-অহঙ্কার এবং বড়াই করার জন্য উপার্জন করা, যদি হালাল সম্পদের উপার্জন করা হয় তা সত্ত্বেও হানাফিদের মতে তা মাকরূহ। হাম্বলিরা স্পষ্ট ভাষায় এটাকে হারাম বলেছেন, যেহেতু তাতে রয়েছে বড়াই এবং গর্ব, যা ব্যক্তিকে পার্থিব ও পরকালীন মিমাংসায় ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত করে।
আবুল লাইচ সমরকান্দী র: বলেন, যে চায় উপার্জন হালাল হোক তার পাঁচটি বিষয় ফলো করা আবশ্যক :
১. উপার্জনের প্রয়োজনে আল্লাহর কোনো ফরজ বিধান পালনে বিলম্ব না করা এবং তাতে ত্রূটি না করা;
২. উপার্জনের প্রয়োজনে আল্লাহর কোনো সৃষ্টিকে যন্ত্রণা না দেয়া;
৩. উপার্জন দিয়ে নিজের এবং পরিবারের চাহিদা পূরণ এবং দ্বীন ও সম্মান বাঁচানোই কাম্য হওয়া। টাকাকড়ি জমা করা ও বাড়ানোর টার্গেটে উপার্জন না করা;
৪. উপার্জনে নিজেকে অতিকান্ত না করে ফেলা;
৫. উপার্জনেই রিজিক অর্জিত হয়, এ কথা মনে না করা। বরং এ কথা মনে রাখার জন্য হবে, রিজিক আল্লাহর পক্ষ হতে প্রদত্ত হয়, উপার্জন হলো তার ১টি মাধ্যম।
প্রত্যেক উপার্জনক্ষম মুসলমানের ওপর উপার্জন সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক। এ জ্ঞান অর্জন করতে হবে চুক্তির সে বিধানগুলো জানার জন্য, যেগুলো হতে উপার্জনপন্থা মুক্ত হয় না। সেগুলো হলো : ক্রয়-বিক্রয়, সুদ, সালাম বা দাদন চুক্তি, নির্দিষ্ট খাজনায় জমি কারবার প্রভৃতির মেয়াদি বন্দোবস্ত প্রদান, সারিকা এবং মুদারাবা। এসব চুক্তির বিধানবলির নলেজ যত অর্জিত হবে উপার্জনকারী লেনদেনের ক্ষতিকর বিষয়াদি সম্পর্কে তত জানতে পারবে। ফলে সেগুলো থেকেও বেঁচে থাকতে উপযোগী হবে।

0 মন্তব্যসমূহ