Recents in Beach

হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে আপনি কি কি করবেন - Islamic Stories

হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে  আপনি কি কি করবেন

হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে  আপনি কি কি করবেন - Islamic Stories
হার্ট-অ্যাটাক-প্রতিরোধে-করনীয় - Islamic-Stories

সারা বিশ্বেই হার্ট অ্যাটাক একটি আলোচিত বিষয়। হৃৎপিণ্ডের রক্তনালি ব্লক হয়ে হার্ট অ্যাটাক হয়। এ রোগে ব্যক্তির জীবনাবসান পর্যন্ত হতে পারে। তবে কয়েকটি প্রতিরোধমূলক অ্যারেঞ্জমেন্ট  করলে এ প্রবলেম অনেকটাই প্রতিরোধ করা যায়।

খাদ্যাভাসে পরিবর্তন: হৃৎপিণ্ড সুন্দর রাখার শক্তিশালী  হচ্ছে খাদ্যাভ্যাস। খাওয়াদাওয়ার নিয়ন্ত্রণ হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়।

প্রচুর মাছ খান: স্নেহ জাতীয় মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডের উৎস। এটা হৃৎপিণ্ডের জন্য ভালো। এটা দেহের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, হৃৎস্পন্দন ঠিক রাখে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। তাই প্রচুর মাছ খান।

প্রতিদিন তিন কাপ চা পান: গ্রিন টি, ব্ল্যাক টি, ওলং টি-এই চাগুলো দেহের কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে হেল্প করে। দেহের কার্বোহাইড্রেট নিয়ন্ত্রণে কাজ করে, বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ প্রশমন করতে সাহায্য করে। এইজন্য হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে রোজ এই চা পান করতে পারেন।

প্রতিদিন পাঁচ কাপ সবজি খান: খাদ্যাভ্যাস শরীরের ক্রনিক রোগগুলোকে প্রতিরোধ করে (যেসব রোগ একেবারে অনেক ভালো হয় না শুধুমাত্র নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, এ ধরনের রোগকে ক্রনিক রোগ বলে)। প্রতিদিন সবজি এবং ফল খেলে ৩০ শতাংশ হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে।

তাই চেষ্টা করুন অন্ন তালিকায় সবজির হিসাব বাড়িয়ে দিতে। পাঁচ কাপ সংখ্যা সবজি খেলে সবচেয়ে বেশ ভালো হয়। আর ফল যদি খেতে নাও স্পৃহা করে কিন্তু জুস করে খান। বহু করে ফল খাওয়াও হৃৎপিণ্ডের জন্য ভালো।

প্রক্রিয়াজাত মাংস এড়িয়ে চলুন:  যদি মাংস খেতেই হয় কিন্তু প্রক্রিয়াজাত মাংস এড়িয়ে চলুন। যেমন : হটডগস, সসেজ, ব্যাকন ইত্যাদি। প্রক্রিয়াজাত মাংস হৃদরোগের ঝুঁকি ৪২ শতাংশ বাড়ায়। একারণে এই ধরনের মাংস না খাওয়াই ভালো।

সন্ধ্যা ৭টার ভিতরে রাতের অন্ন সম্পন্ন করুন:  চেষ্টা করুন সন্ধ্যা ৭টার ভিতরে রাতের অন্ন সম্পন্ন করার। মাঝরাতে খাবার স্বীকার করবেন না। মাঝরাতের আহার শরীরে প্রদাহ বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য পারে। রক্তে শর্করার পরিমাণ ও রক্তে চর্বির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।

তাই রাতের খাবারের পর রান্নাঘরের সাথে মানসিক যোগাযোগ বন্ধ করে দিন। পাশাপাশি বিশ্রাম নিন। দেহের মেটাবোলিক কার্যক্রম বাড়াতে বিশ্রামের প্রয়োজন রয়েছে।

ভালো বিষয়ে লিস্ট তৈরি করুন

যদি দিনে সুন্দর কয়েকটি করে থাকেন, কিন্তু তার একটি লিস্ট প্রস্তুত করুন। গবেষণায় লক্ষ্য গেছে, ২৮৭ মনুষ্য লোকের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমেছে কেবল এই কাজটির কারণে। এটা আপনাকে বেশ ভালো অনুভূতি দিতে সাহায্য করবে।

যারা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে আছেন, তাদের মানসিকভাবে সুস্থ করতেও এই বিষয়টি বেশ কাজে দেয়। একারণে যে কাজগুলোর জন্য আপনি কৃতজ্ঞ প্রতিদিন সেগুলো নোট খাতায় লিখে ফেলুন।

ব্যস্ত থাকুন:  যারা সপ্তাহে কমপক্ষে দু’বার যৌন মিলনে অভ্যস্ত, তারা অধিক চমৎকার থাকেন যারা মাসের মধ্যে একবার যৌন মিলনে লিপ্ত হন তাদের তুলনায়। যদি আপনি হৃদরোগের ঝুঁকিতে থাকেন তবে সেক্সুয়াল অ্যাকটিভিটি বাড়ান।

জানালা খোলা রাখুন, বায়ু প্রবাহিত হোক: বিভিন্ন কারণে ঘরের বাতাস দূষিত হতে পারে। বায়ুদূষণের ফলেও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই কমপক্ষে একবেলা আপনার ঘরের জানালাগুলো খুলে দিন এবং বায়ু চলাচল করতে দিন।

ধোয়ামোছার জিনিসপত্র: রান্নাঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য বিভিন্ন পণ্য রয়েছে। গবেষণায়  হচ্ছে, এসব পণ্যে ক্যামিক্যাল রয়েছে যেটি উচ্চরক্তচাপ এবং স্ট্রোকের সাথে সম্পর্কযুক্ত। তাই রান্নাঘর পরিষ্কারের জন্য ধবল ভিনেগার, লেবু, খাবার সোডা ইউজ করুন।

প্লাস্টিকের পণ্য কম ইউজ করুন: প্লাস্টিকের পণ্যে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল থাকে। উদাহরণসরূপ : বিসফেনল এ (বিপিএ) এবং পেথালেটস। এগুলো শরীরের হরমোনাল পদ্ধতিকে প্রভাবিত করে। বিপিএর সাথে হৃদরোগের রিলেশন আছে। পেথালেটস কেমিক্যাল শরীরের কার্ডিওভাসকুলার পদ্ধতিকে প্রভাবিত করে। একারণে প্লাস্টিকের কনটেইনারের ইউজ কমিয়ে গ্লাস, সিরামিক বা স্টেইনলেস স্টিল ইউজ করুন।

যোগব্যায়াম করুন:  যোগব্যায়াম আপনার শরীরের উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে হেল্প করে; হৃৎস্পন্দন সঠিক রাখার জন্য কাজ করে। যোগব্যায়াম দেহের নানারকম রোগ প্রতিরোধে কাজ করে। এজন্য হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে যোগব্যায়াম করতে পারেন।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ