ইসলামের নিয়ম অনুযায়ী বাসর রাতের করনীয় - বর্জনীয়
![]() |
| ইসলামের -নিয়ম -অনুযায়ী -বাসর -রাতের -করনীয় - বর্জনীয় - Islamic Stories |
১. প্রশ্ন : বাসর রাতেরবেলা নববধু কিভাবে সজ্জিত হবে?উত্তর : নববধু মেহেদি ব্যবহার করবে, অলংকার পরবে এবং সধ্যমত শরীয়ত সম্মত উপায়ে সেজেগুজে অসাধারণ পোশাক- পরিচ্ছেদে সজ্জিত হবে। (দেখুন-আহকামে জিন্দেগী)
২. প্রশ্ন : বাসর কামরায় প্রবেশ করে কোন নামাজ পড়বে কি না?
উত্তর : পুরুষ বাসর ঘরে প্রবেশ করতঃ নববধুকে সহ দুই রাকআত (শুকরানা) নামায পড়বে। (দেখুন- শিরআতুল ইসলাম, আহকামুল ইসলাম)
৩. প্রশ্ন : নামায পড়ার পর কি করবে?
উত্তর : অতঃপর স্ত্রীর ভাগ্যের উপরিস্থিত চুল ধরে বিসমিল্লাহ বলা হয়ে থাকে এ দুআ পাঠ করা সুন্নাত-(বাংলা
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা ওয়া খাইরা মা যুবিলাত আলাইহি, ওয়া আউযুবিকা মিন শাররি হা ওয়া শাররি গর্ভধারিণী যুবিলাত আলাইহি) (দেখুন- ইমাদাদুল ফাতওয়া, আহকামুল ইসলাম)
৪. প্রশ্ন : বাসর কামরায় ঢুকে নামায ও দোয়া পড়ার পর আর কোন আমল রয়েছে কি না?
উত্তর : বিভিন্ন ইসলামী কিতাবে বাসরঘরে ঢুকে উপরোক্ত আমলগুলো করতে বলা হয়েছে। এরপর স্বামী-স্ত্রী নিজেদের মত নিজেরা অবগত থেকে থাকবে। তবে প্রথমে বর মহর বিষয়ক আলোচনা করে নিবে। তা পূরণ আদায় না করে থাকলে বিবি থেকে সময় চেয়ে নিবে। (সূত্র- আহকামুল ইসলাম)
৫. প্রশ্ন : সংগম আরম্ভ করার পূর্বে সর্বপ্রথম কি করতে হবে?
উত্তর : সংগম চালু করার পূর্বে সর্ব প্রথম নিয়ত সহীহ করে নেয়া; অর্থাৎ, এই নিয়ত করা যে, এ হালাল পন্থায় যৌন ডিমান্ড পূর্ণ করার মাধ্যমে হারামে পতিত হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে, তৃপ্তি লাভ হবে ও তার মাধ্যমে কষ্ট সহিষ্ণু হওয়া যাবে, ছওয়াব হাছেল হবে এবং সন্তান লাভ হবে। (দেখুন- আহকামে জিন্দেগী, আহকামুল ইসলাম)
৬. প্রশ্ন : অনেকে বলা হয় বাসর রাতে স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করা অনুচিত, কথাটি নির্ভুল কি না?
উত্তর : না, এধরণের কথা ঠিক নয়, এ সময় যে কোন উপভোগের জন্য স্বামী- স্ত্রী পূরণ স্বাধীন। তারা
সন্তুষ্টচিত্তে যে কোন কাজ করতে পারে। তবে নিশ্চয়ই প্রথমরাত হিসেবে অপরের চাহিদার প্রতি লক্ষ রাখা উচিত। (সূত্র- আহকামুল ইসলাম, আহমাকে জিন্দেগী)
৭. প্রশ্ন : সংগমের প্রথমে কোন দোয়া পড়তে হবে?
উত্তর : সংগমের প্রথমে বিসমিল্লাহ বলা হয়ে থাকে কার্য চালু করা। তারপর শয়তান থেকে পানাহ চাওয়া। উভয়টিকে একাধার এভাবে জানানো যায়- বাংলা উচ্চারণ : বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শাইতানা ওয়া
জান্নিবিশ শাইতানা জননী রাযাকতানা। টাকা-পয়সা : আমি আল্লাহর নাম নিয়ে এই কাজ শুরু করছি। হে
আল্লাহ, শয়তানকে আমাদের হতে দূরে রাখ এবং যে সন্তান তুমি আমাদের উৎসর্গ করবে তার থেকেও শয়তানকে সরে রাখ। (দেখুন- আহকামে জিন্দেগী)
৮. প্রশ্ন : সংগমের বিশেষ কতিপয় ভদ্রসমাজের রীতিনীতি ও বিধি-নিষেধ জানতে চাই?
উত্তর : সংগমের কতিপয় ভদ্রতা ও নিয়ম নিন্মরূপ- কোন শিশু বা পশুর সামনে সংগমে রত না হওয়া, পর্দা ঘেরা স্থানে সংগম করা, সংগম চালু করার পূর্বে শৃঙ্গার (চুম্বন, স্তন মর্দন ইত্যাদি) করবে। বীর্য, যৌনাঙ্গের রস প্রভৃতি মোছার জন্য এক টুকরা পোশাক রাখা, সংগম অবস্থায় বেশী কথা না বলা, বীর্যের এবং স্ত্রীর যৌনাঙ্গের প্রতি দৃষ্টি না করা, সংগম শেষে পেশাব করে নেয়া, এক সংগমের পর পুনর্বার সংগমে লিপ্ত থেকে চাইলে যৌনাঙ্গ ও হাত ধুয়ে নিতে হবে, বীর্যপাতের পরই বরের নেমে না যাওয়া বরং স্ত্রীর ওপর অপেক্ষা করা, যেন স্ত্রীও তার খাহেশ পূরণ মাত্রায় মিটিয়ে নিতে পারে, সংগমের পর অন্ততঃ বিছুক্ষণ ঘুমানো উত্তম, জুমুআর দিনে সংগম করা মুস্তাহাব, সংগমের বিষয় কারও নিকট
প্রকাশ করা নেষেধ, এটা একদিকে নির্লজ্জতা, অন্যদিকে স্বামী/স্ত্রীর হক নষ্ট করা, সংগম অবস্থায় স্ত্রী-
যোনীর দিকে নজর না দেয়া, কিন্তু হযরত ইবনে ওমর (রা.) সংগম, অবস্থায় স্ত্রী-যোনীর দিকে দৃষ্টি দয়া
উত্তেজনা বৃদ্ধির সহায়ক বিধায় এটাকে অসাধারণ বলতেন। (দেখুন- আহকামে জিন্দেগী)
৯. প্রশ্ন : কোন কোন অবস্থায় স্ত্রীর সঙ্গে সংগম করা যাবে না?
উত্তর : নিম্নোক্ত অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সংগম করা যাবে না। স্ত্রীর মাসিক বা প্রসবকালীন স্রাব চলা
কালে। এতেকাফ অবস্থায়। রোজার দিনের বেলায়। এহরাম অবস্থায়। স্ত্রীর পিছনের পথ দ্বারা।
(দেখুন- স্বামী-স্ত্রীর মধুর মিলন, আহকামে জিন্দেগী)
১০. প্রশ্ন : সংগম অবস্থায় স্ত্রীরযোনীর দিকে নজর দেয়া যাবে কি না
উত্তর : সংগম অবস্থায় স্ত্রী-যোনীর দিকে নজর না দেয়া। তবে হযরত ইবনে ওমর (রা.) সংগম, অবস্থায় স্ত্রী-যোনীর দিকে দৃষ্টি করুণা উত্তেজনা বৃদ্ধির সহায়ক বিধায় এটাকে সন্তুষ্ঠজনক বলতেন। (সূত্র - শরহুন
নুকায়া এবং হিদায়া)
.
১১. প্রশ্ন : বীর্যপাতের সময় কোন দোয়া পড়বে?
উত্তর : বীর্যপাতের সময় নিম্নোক্ত দুআটি পড়বে- বাংলা মুখ দিয়ে শব্দ করা আল্লাহুম্মা লা তাজআল লিশ্শাইতানি
ফিমা রাযাকতানী নাসীবান। টাকা-পয়সা হে আল্লাহ, যে সন্তান তুমি আমাদের সবাইকে অৰ্পণ করবে তার মধ্যে
শয়তানের কোন অংশ রেখ না। (দেখুন- আহকামে জিন্দেগী)
১২. প্রশ্ন : সংগম অবস্থায় স্ত্রীর যোনী স্বামী চোষতে পারবে কি না? এবং বরের লিঙ্গ বউ চোষতে
পারবে কি না?
উত্তর : সংগম অবস্থায় স্বামী বউ একে অপরের লজ্জাস্থানকে চোষা ও মুখে নেওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ, এবং মাকরুহ ও গুনাহের কাজ। এটি কুকুর, গরু, বকরী প্রভৃতি প্রানীর স্বভাবের মত। তাই এ কাজ থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। ভাবনা করে দেখুন যে মুখে পবিত্র কালিীমা লেখাপড়া হল, কুরআনশরীফ তিলাওয়াত করা হয়, দরুদ শরীফ লেখাপড়া হয়, তাকে এরূপ নিকৃষ্ট কজে ইউজ করতে মন কেমন করে চায়। তাই এই কাজ মুমিনের কাজ থেকে পারে না। (দেখুন- ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া ও ফাতাওয়ায়ে রহীমিয়া, আহকামে জিন্দেগী)
১৩. প্রশ্ন : দাঁড়িয়ে সহবাস করা যাবে কি না?
উত্তর : হ্যাঁ, দাঁড়িয়েও সহবাস করা যাবে। যারা বলে দাঁড়িয়ে সহবাস করা যায় না তাদের কথা সঠিক নয়।
তাই ঐ কথায় কান দেয়া যাবে না। (দেখুন- ইতহাফুস সাদাতিল মাত্তাকীন, আল কাউসার, আহকামে
জিন্দেগী)
গ্রন্থনা ও সম্পাদনায় :
মাওলানা বশিরুল হক

0 মন্তব্যসমূহ